শরীফ জনতা

Shorif Jonota

Shorif Jonota is an unique style Bengali font. This font is available for Unicode. You can use it in anywhere, specially for making logo, posters, magazines, banners and etc.
Author Notes : This is free font for Personal, Commercial and all type of usage. You can use it in anywhere.
Font Details
Type:Unicode
Designer:Shorif Uddin Shishir
Styles:1
Published:9 January 2018
Downloaded:



    |     Font Size  
Shorif Jonota
আমার সোনার বাংলা
ছোটো গল্পঃ- মৃত্যুঞ্জয়
প্রীতিলতা এক মখমলের চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।চাদরটা ওর খুব প্রিয়।এটা ওর স্বামী প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে উপহার দিয়েছিল।প্রীতিলতা এখন চলন শক্তি হারিয়েছে,তাই চাদরটাই প্রায় তার সর্বক্ষণের সঙ্গী।অবশ্য তার আসল সঙ্গী,তার স্বামী তপেশ সবসময় তার পাশে থাকে।ডাক্তার তাকে গোপনে বলেছে প্রীতিলতার আয়ু আর বেশিদিন নেই।তপেশ তাই তার প্রীতির শেষ কটা দিন সুন্দর করে রাখতে চায়।সে সারা ঘর প্রীতির প্রিয় জিনিস দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে।প্রীতির প্রিয় ফুল সূর্যমুখী,তাই তপেশ তার বিছানার পাশের টেবিলে একগুচ্ছ সূর্যমুখী ফুল রেখেছে।প্রীতিলতা ঘুম ভেঙে পাশে তাকিয়ে দেখলো তপেশ সোফাতে ঘুমিয়ে পড়েছে।সে তার ঘুম ভাঙাতে চাইলো না কিন্তু তার প্রচন্ড কাশি পেয়ে গেলো।তপেশ ঘুম থেকে উঠে জলের গ্লাস দিয়ে প্রীতিকে জল খাওয়াতে লাগলো আর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, তপেশ- তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? প্রীতি- আরে না না!তোমার কষ্ট হচ্ছে না তো?সারাদিন তো আমার জন্য অনেক ধকল যাচ্ছে। তপেশ- তুমি তো ভালো করেই জানো কষ্ট জিনিসটা তো আর হয় না আমার,কষ্টের বড়োই অভাব। প্রীতি- তাও তো বটে!এই আমাদের ফটো অ্যালবামটা দাও না,একটু আমাদের পুরনো ছবিগুলি দেখি। অ্যালবামটা হাতের কাছেই ছিল।প্রীতিলতা আজকাল প্রায়ই অ্যালবামটার ছবিগুলি দেখে আর তাদের পুরনো মধুর স্মৃতি মন্থন করে।অবশ্য তপেশ এতে বিরক্ত হয় না,বরং উপভোগ করে। প্রীতি- এই ছবিটা দেখো,তোমার মনে পড়ে!এটা আমাদের প্রেমের একবছর পূর্তির দিন তুলেছিলাম। তপেশ- মনে পড়ে না আবার!সেইদিন তুমি ঐ বেগুনী শাড়িটা পরে এসেছিলে যেটা আমার প্রিয় ছিল। প্রীতি- হ্যা সেইদিন আমরা শপথ নিয়েছিলাম যাই ঘটুক না কেনো বার্ধক্যও আমরা একসাথে অতিবাহিত করবো,অবশ্য তা হলো কই! দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করলো।তপেশ অ্যালবামের পেজ উল্টোলো,সেখানে তাদের বিয়ের ছবি। প্রীতি- তোমাকে কিন্তু বরের বেশে খুব সুন্দর লাগছিলো। তপেশ- তোমাকে কি আর কম সুন্দরী লাগছিলো!বিয়ের দিন চোখই ফেরাতে পারছিলাম না। এরপর তাদের চোখ তাদের ফ্যামিলি ফটোর দিকে গেলো।ছবিতে তাদের ছেলে শ্রীমন তাদের কোলে বসে আছে।ছবিটা দেখে প্রীতিলতার মুখে উদাশ ভাব ফুঁটে উঠলো।তপেশ তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, তপেশ- যা হয়েছে তা ভুলে যাও। তপেশ প্রীতির হাতটা জরিয়ে ধরলো।প্রীতিলতা উদাস কন্ঠে বললো, প্রীতি- আমি চলে গেলে তুমি খুব কষ্ট পাবে তাই না? তপেশ- কে বললো তুমি চলে যাবে!তুমি সবসময় আমার কাছে থাকবে। সে প্রীতির কপালে একটা চুম্বন দিলো।প্রীতিলতার মুখে এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো।ধীরে ধীরে তার শরীর শীতল হয়ে এলো,প্রীতিলতা পাড়ি দিলো চিরনিদ্রার দেশে।তপেশ ছুটে বেড়িয়ে গিয়ে বাড়ির দালানে বসে অঝোরে কাঁদতে লাগলো।তার শেষ ভালোবাসার মানুষটাও তাকে ছেড়ে চলে গেলো,কষ্টে তার যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে যদিও তা সম্ভব না।অবশ্য তার এই কষ্ট কেউ বুঝবে না,খবরে খালি হেডিং থাকবে "৩০ বছরের মৃত্যুঞ্জয়ের ৯৫ বছরের স্ত্রী আজ দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।" কথাটা ভেবে সে উন্মাদের মতো হাসতে লাগলো,তার মাথার অবস্থা এখন ঠিক নেই।কথাটা শুনতে অবাক লাগলেও তপেশ শারীরিক ভাবে ৩০ বছরের ব্যাক্তি।এ আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা,তপেশ ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞানের বিষয়ে ব্রিলিয়েন্ট ছিলো।তার মূল উৎসাহ ছিল মেডিক্যাল সাইন্সে।তাই তরুণ বয়স থেকেই সে এই বিষয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু করে।এমন করেই সে আবিষ্কার করে ফেলে অমৃত।হ্যা অমৃতই বটে কারণ তপেশ যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল তা দিয়ে মানুষের আয়ুবৃদ্ধি থেমে যায়,?কোনো রোগ বা ক্ষতিকারক পদার্থ তাকে প্রতিহত করতে পারে না।থাকে না আর কোনো শারীরিক যন্ত্রণা।তপেশ এই ভ্যাকসিন নিজের উপর প্রয়োগ করে হয়ে উঠে অমর।পৃথিবী জুড়ে সে বিখ্যাত হয়ে উঠে,ভারতীয়রা তাকে মৃত্যুঞ্জয় বলে ভূষিত করে।সরকার থেকে এই ভ্যাকসিন অন্য লোকেদের উপর প্রয়োগ করা হয় কিন্তু তারা সকলেই মারা যায়।গবেষণায় দেখা যায় বিশেষ এক জেনেটিক বৈশিষ্ট্য থাকলেই এই ভ্যাকসিন কাজ করবে যা এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র তপেশের আছে।সে একমাত্র অমর,এটাকে তপেশ আশীর্বাদ হিসেবেই সানন্দে গ্রহন করলো।কিন্তু এর উল্টো দিক তখনও সে দেখতে পাইনি।ধীরে ধীরে তার সকল প্রিয় মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।তার ছেলেও দুর্ঘটনায় মারা গেলো।কিন্তু তপেশের আর কিছুই করার ছিলো না শুধু এই দেখা ছাড়া যে তার সকল কাছের মানুষ প্রকৃতির নিয়মে তাকে ছেড়ে একদিন চলে যাচ্ছে।এইজন্যই হয়তো মৃত্যু এতো ভয়ঙ্কর হয়েও সুন্দর কারণ তাতে একদিন সবকিছু থেকে শান্তি পাওয়া যায়।কিন্তু অমরত্বে সেই শান্তি কোথায়!আজ থেকে তপেশ পৃথিবীর বুকে সত্যিই একা এবং তাকে একাই বাঁচতে হবে,যতোই কেও তার আপন হোক প্রকৃতির নিয়মে সে একদিন তপেশকে ছেড়ে যেতে বাধ্য।ভাগ্যের পরিহাসে তপেশের জীবনের সবচেয়ে বড়ো আশীর্বাদ তার সবচেয়ে ভয়ানক অভিশাপে পরিনত হয়েছে।
গল্পকারঃ- অনির্বাণ চক্রবর্তী